1. admin@sunnah24.com : sunnah24 :
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
হেফাজতের আন্দোলনে আমাদের অর্জন ও ছাত্রদের পরীক্ষা বর্জন নিয়ে কিছু কথা – এহসানুল হক মুফতি ওয়াক্কাস রহ. এর জানাযা সম্পন্ন স্বপদে ফিরে এলেন মাওলানা আব্দুল আউয়াল সুনামগঞ্জের হিন্দুগ্রামে হামলা কিছু প্রশ্ন ও নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস মাওলানা জসীম উদ্দীনের উপর হামলায় ইত্তেহাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ সন্ত্রাস ও দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন খেলাফত আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য – আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী হেফাজত আমীরের সুস্থ্যতা কামনায় মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর দোয়া আহ্বান হাসপাতালে আল্লামা বাবুনগরী হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা : ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়ার পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত: কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ

সুনামগঞ্জের হিন্দুগ্রামে হামলা কিছু প্রশ্ন ও নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১
  • ১১৪ Time View

গত ১৫ই মার্চ সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শানে রেসালাত সম্মেলন ছিলো। সম্মেলনে আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও অনেকেই বক্তব্য রাখেন। সেদিন রাতেই সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের ঝুমন দাস আপন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম মাওলানা মামুনুল হক এর বিরুদ্ধে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করে। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিন মঙ্গলবার রাত ১১টায় গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ পযর্ন্ত ঘটনা স্বাভাবিকই ছিলো। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে। স্থানীয় কিছু আবেগী জনতা লাঠিসোঠা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম নোয়াপাড়ায় হামলা করে। কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মূহুর্তেই এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। প্রথম সারির সবগুলো মিডিয়ার সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয় ঘটনাটি।
আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্তব্যের জের ধরে এমন ঘটনা কোনো বিবেচনায় সমর্থনযোগ্য নয়। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, সবশ্রেণীর মানুষের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হিন্দু কতৃর্ক ধৃষষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে ধর্মপ্রাণ মানুষ ফুসে উঠবে এটা খুব স্বাভাবিক। আবেগী জনতার কর্মকান্ডে কিছু বাড়াবাড়িও হতে পারে। কিন্তু দুইদিন পর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা ও মিডিয়ার সম্মিলিত অপপ্রচারের কারণে নানা ধরনের সন্দেহ হচ্ছে।
এখানে যে প্রশ্নগুলো আসতে পারে
১. কটুক্তি করা হয় সোমবার। ঐ ছেলেকে গ্রেফতার করা হয় মঙ্গলবার। এরপর বুধবার হামলা হবে কেন? কটুক্তিকারী গ্রেফতারের পর গ্রামবাসীর উপর হামলা হবে কেন? পত্রিকার বিবরণে এসেছে, হামলার ভয়ে এলাকাবাসী গ্রাম ছেড়ে হাওর এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো। হামলা হবে এটা কি তারা জানতো? তাহলে হামলা প্রতিরোধের ব্যবস্থা হয়নি কেনো?
২. হামলাকারীদের অনেক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে। এদের মধ্যে কোনো মাদরাসা ছাত্র বা আলেম উলামা দেখা যাচ্ছে না। সবাই সাধারণ গ্রামবাসী। হলুদ মিডিয়াও এখন পযর্ন্ত দাবি করতে পারেনি এই হামলার সাথে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক তথা আলেম উলামারা জড়িত। মাওলানা মামুনুল হক এর উপর কোনো আঘাত এলে তার প্রতিবাদে প্রথম নামার কথা তার দল ও হেফাজত কর্মীদের। কিন্তু হামলাকরীদের মধ্যে কোনো হেফাজত কর্মী নাই কেনো?
৩. সংবাদ মাধ্যমে হামলাকে খুব বড় করে দেখানোর চেষ্টা চলছে। কোথাও লিখেছে ৩০ হাজার মানুষ হামলায় অংশ নিয়েছে। কয়েকশ বাড়ি ভাংচুর হয়েছে। নারী নির্যাতন হয়েছে। এত মানুষ হামলা করলো, কেউ আহত হলো না কেন? অসংখ্য মানুষ আহত ও নিহত হওয়ার কথা। কোথাও তো আহতদের সংখ্যা দেখলাম না। আসলেও কি এটা বড় কিছু ছিলো? না মিডিয়াবাজির মাধ্যমে বড় করার চেষ্টা হচ্ছে?
৪. মিডিয়ার আচরণ শুরু থেকেই সন্দেহজনক। প্রথম থেকে তারা এর দায় চাপিয়ে দিলো হেফাজতের উপর। অথচ ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বলছে সেখানে হেফাজতের কেউ নেই। সব সাধারণ গ্রামবাসী। কালের কন্ঠের এক নিউজে দেখলাম, সেখানে নাকি মুক্তিযুদ্ধাদের খুঁজে খুঁজে হামলা করা হয়েছে। অবশেষে এখানেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ঢুকাতে হবে? আর কিছু এরা বাকি রাখবে না?
যে উদ্দেশ্যে হামলা হতে পারে
১.. অল্প কিছুদিন পরেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন। সেই নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বেশ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ভোটের পাল্লাভারি করতে এটা নাকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য মাঝে মাঝে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অবস্থা তৈরি করতে হয়। কিছু হিন্দু এজেন্ট উস্কানী দেয়। কিছু আবেগী জনগণ তাদের উপর হামলে পরে। প্রচারণা জমে উঠে। তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়। এটাও হয়তো তেমন কিছু।
২. বর্তমান সময়টা গুরুত্বপূর্ণ।মুজিববর্ষ উপলক্ষে নানা আয়োজন চলছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান আসবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আসবে। গত বছর যখন আসার কথা ছিলো। তখন উলামায়ে কেরাম তুমুল আন্দোলন করেছিলো। সরকারের মনে এই শংকটা অবশ্যই আছে, হুজুররা আবারও রাজপথে নামে কিনা। এই ঘটনার কারণে হেফাজত চাপে থাকবে। আবার নতুন করে ফাদে ফেলা যাবে বাতিলের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর মাওলানা মামুনুল হককে। লাভ এটাই।
আমাদের করণীয়
সুনামগঞ্জে যা ঘটেছে, সেটা অবশ্যই নিন্দনীয়। এমন উগ্রতা কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। কোনো আলেমের প্রকৃত অনুসারীরা এমন কাজ করতে পারে না। মামুন সাহেব ভিডিও বার্তায় এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে গতকালই বিবৃতি আসা প্রয়োজন ছিলো। আসেনি। আজকে আসা দরকার। সুনামগঞ্জের উলামাদের সহযোগিতায় এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া দরকার। সিলেটের উলামায়ে কেরামদের এগিয়ে আসতে হবে।

অনলাইন থেকে পাওয়া

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© কপিরাইট 2020, সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
Power by . E-mail: ababilhost@gmail.com